আন্তর্জাতিক

মৃত্যুর ১৮ ঘণ্টা আগে বিয়ে!

মৃত্যুর ১৮ ঘণ্টা আগে বিয়ে!

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নিজের শেষ মুহূর্তগুলো গুনছিলেন হিদার লিন্ডসে। মুখে বিষাদ নয়, ইচ্ছে পূরণের স্মিত হাসি। পরনে বিয়ের শুভ্র পোশাক। হিদার লিন্ডসের ঠোঁটে এই স্মিত হাসির রেখা খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র ১৮ ঘণ্টা। ২২ ডিসেম্বর ডেভিড মোশারের সঙ্গে বিয়ের পরদিনই তিনি মারা যান।

কানেকটিকাটের বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী হিদার লিন্ডসে পরাজয় মেনেছেন ঘাতক ব্যাধি স্তন ক্যানসারের কাছে। হার্টফোর্ডের সেন্ট ফ্রান্সিস হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ২২ ডিসেম্বর ছিল তাঁর জীবনের বিশেষ একটি দিন। মুখে অক্সিজেন নল নিয়ে বিয়ের শুভ্র পোশাকে সেদিন হাসপাতালে নিজের বিছানায় শুয়ে ছিলেন তিনি। হাতে ছিল ফুল। সেদিনই গুটিকয় মানুষের উপস্থিতিতে ডেভিড মোশারের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর।

লিন্ডসের শেষ মুহূর্ত সম্পর্কে ২ জানুয়ারি এবিসি নিউজকে ডেভিড মোশার বলেন, ‘বিয়ের সময় দেওয়া চিরজীবন একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতিটিই ছিল তার শেষ      সময়ে উচ্চারিত গুটিকয় শব্দমালার একটি।’

২০১৫ সালে পরস্পরের প্রেমে পড়েন ডেভিড ও লিন্ডসে। আর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে লিন্ডসের, যা ছিল শেষ পর্যায়ে। সেই রাতেই ডেভিড বিয়ের প্রস্তাব দেন লিন্ডসেকে। ডেভিড মোশার বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এই সময়েই তার আমাকে বেশি প্রয়োজন।’

ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সে সময় লিন্ডসেকে দুটি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। গত বছরের শেষ দিকে এসে চিকিৎসকেরা    তাঁদের জানান, বিয়ে করতে চাইলে তাঁরা যেন তা দ্রুত করেন। অক্সিজেন মাস্ক পরিহিত অবস্থায় অবশেষে  কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস চলাকালেই লিন্ডসে বিয়ে করেন ডেভিডকে। পরদিন নিভে যায় লিন্ডসের জীবন প্রদীপ। আর ৩০ ডিসেম্বর লিন্ডসের পরিবার তার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতাটি সারে, যেই দিনটিতে প্রথম বিয়ের   পরিকল্পনা করেছিলেন লিন্ডসে ও ডেভিড।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বোচ্চ পঠিত

Quis autem vel eum iure reprehenderit qui in ea voluptate velit esse quam nihil molestiae consequatur, vel illum qui dolorem?

Temporibus autem quibusdam et aut officiis debitis aut rerum necessitatibus saepe eveniet.

কপিরাইট © ২০১৫ ভোরের পাখি - কে.কে.এন মিডিয়া এর একটি প্রচেষ্টা

To Top