জীবনধারা

সঠিক নিয়মে দাড়ি-গোঁফ কাটার নিয়ম জানা উচিৎ সব পুরুষের !

সঠিক নিয়মে দাড়ি-গোঁফ কাটার নিয়ম জানা উচিৎ সব পুরুষের !

দাড়ি কাটার উপযুক্ত নিয়ম জানা উচিৎ সকলের । দৈনন্দিন জীবন-যাপনে এই গুরুত্বপুর্ন ব্যাপারটি অবশ্যই দায়সারা ভাবে শেষ করা উচিত নয়, এমনটাই বিশেষজ্ঞদের মতামত ।

শেভ করার ঝামেলা এড়াতে অনেকেই সেলুন বেছে নেন। তবে সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে নিজের শেভ করার সরঞ্জামাদি দিয়ে শেভ করা ভালো বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা । তবে বাসায় নিজে শেভ করতে গিয়ে কখনো দাড়ির বিপরীতমুখী টান দিয়ে ত্বক কেটে ফেলেন। শেভ করা ভালো না হলে মুখের ত্বক খসখসে বা দাড়ি বেশি শক্ত হয়ে যেতে পারে। কারো মুখে র‌্যাশ অথবা ব্রণের উৎপাত দেখা দেয়। কারো কারো মুখে জ্বলুনিও হতে পারে। এসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে দরকার আরামদায়ক শেভ করা। তাই..

জেনে অবাক হবেন গড়পড়তায় একজন পুরুষ তার সারা জীবনে প্রায় ২০ হাজার বার দাড়ি কামিয়ে থাকেন। “গোঁফকে বলে তোমার আমার – গোঁফ কি কারো কেনা ?/ গোঁফের আমি গোঁফের তুমি, তাই দিয়ে যায় চেনা।” তা সে দাড়ি-গোঁফ রাখুন কি না রাখুন। মুখশ্রী সুন্দর রাখতে নিয়ম করে শেভ করাই লাগে। গোঁফ দিয়ে চেনা যাক বা না যাক দাড়ি-গোঁফের যত্ন না নিলে বদলে যেতে পারে মুখমণ্ডলের ভৌগলিক সীমারেখা। পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি লুকের জন্য তাই নিয়মিত কামিয়ে রাখতে হয় দাড়ি-গোঁফ। ত্বকের ধরণ অনুযায়ি নানা কারনে শেভ করার পর নানা জটিলতায় ভুগতে হয়। তাই একটু সাবধান হতেই হয় শেভ করতে গেলে।

✿ শেভ করার আগে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। ভাল করে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এতে ময়লা দূর হয়ে লোমকূপগুলো উন্মুক্ত হয় ও মরা কোষগুলো দূর হয়।

✿ মুখে ভালোভাবে শেভিং ক্রিম, সোপ, জেল অথবা শেভিং ফোম লাগিয়ে নিন। কিছু সময় ভালোভাবে ফেনা হলে তারপর আস্তে আস্তে রেজর চালান।

✿ দ্বিতীয় বার ক্রিম বা ফোম লাগানোর আগে বা পরে শেভিং অয়েল লাগিয়ে নিতে পারেন।

✿ দাড়ি-গোঁফের অনুকূলে সহনশীল গতিতে রেজার টানবেন। গাল ও থুতনির কাছে ওপর থেকে নিচের দিকে এবং গলার দিকে একটু সতর্কতার সঙ্গে রেজর টানবেন।

✿ দাড়ির উল্টোদিকে রেজর না চালানোই ভাল।

✿ ত্বক শুকালে আফটার শেভ লোশন ব্যবহার করুন।

✿ ভরাট গালে ব্লেড সমান জায়গায় সহজে ঘোরাফেরা করে তাই কাটার আশঙ্কাও বেশি থাকে। আবার যাদের গালের চোয়াল কিছুটা ভাঙা তাদেরও রেজর টানা উচিত একটু ধীরে।

✿ সিঙ্গেল ব্লেড নয় শেভিংয়ের ক্ষেত্রে ট্রিপল ব্লেড ব্যবহার করা ভালো এবং তুলনামূলক নিরাপদ।

✿ শেভিংয়ের পর মুখে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম লাগান। অ্যান্টিসেপটিক ধুয়ে মুখে আফটার শেভ লোশন দিন।

✿ ঘুম থেকে উঠেই শেভ করা উচিত নয়। কমপক্ষে এক ঘণ্টাপর শেভ করা উচিত।

সেলুনে শেভ করতে খেয়াল রাখতে হবে পরিচ্ছন্নতা মানা হচ্ছে কি না। প্রতিবার নতুন ব্লেড অথবা ব্যবহৃত ক্ষুরটি আগে শেভ করার পরে ধোয়া হয়েছে কীনা জেনে নিন।

সঠিক নিয়মে দাড়ি-গোঁফ কাটার নিয়ম জানা উচিৎ সব পুরুষের !

সঠিক নিয়মে দাড়ি-গোঁফ কাটার নিয়ম জানা উচিৎ সব পুরুষের !

এবার জেনে নিন, চুল-দাড়ি-গোঁফ নিয়ে সাত পরামর্শ!

পুরুষের বেলায় নিজের চেহারাটিকে আকর্ষণীয় করতে চুল-দাড়ির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাই মানানসইভাবে এগুলোর কাটছাঁট করতে কত গবেষণাই না করি আমরা। নিজের চেহারা ও অবয়বের সঙ্গে চুল-দাড়ি যদি না মানায়, তবে আপনার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হবে। এর কারণ, চুল-দাড়ি কামাতে গিয়ে ভুল করেছেন আপনি। এখানে জেনে নিন এমনই সাতটি সাধারণ ভুলের কথা, যা আপনার চেহারার সঙ্গে চুল-দাড়ি-গোঁফকে বেমানান করে দেবে।

১. এলোমেলো দাড়ি ও গোঁফ : বড় বড় দাড়ি ও গোঁফে কোনো সমস্যা নেই, যদি তা গোছানো ও পরিপাটি অবস্থায় রাখা যায়। তাই প্রতিদিনই দাড়ি ও গোঁফের আগা আপনার পছন্দমতো করে ছেঁটে নেওয়া প্রয়োজন। দুই দিন পর পর সেলুনে গিয়ে কাজটি করতে পারেন। আবার বাড়িতেও ইলেকট্রিক ট্রিমার দিয়ে কাজটি সারা যায়। কাঁচি ও চিরুনি ব্যবহার করে নিজেও হাত পাকিয়ে নিতে পারেন। যেভাবেই কাটুন না কেন, যেখানে গিয়ে দাড়ি-গোঁফের শেষ হয়েছে এবং খোলা ত্বক শুরু হয়েছে, সেখানে সুন্দর ফিনিশিং দিন। নয়তো বাজে দেখাবে আপনাকে।

২. অমসৃণ খোঁচা খোঁচা দাড়ি : ২০১২ সালে ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের এক গবেষণা এবং ২০০৮ সালে নর্থহামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির এক গবেষণাপত্রে বলা হয়, নারীদের কাছে পরিষ্কার ঝকঝকে মুখের চেয়ে খোঁচা খোঁচা দাড়ির চেহারা আকর্ষণীয় পুরুষ বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু এলোমেলো এবং অপরিপক্বের মতো ছোট দাড়ি মোটেও আকর্ষণ ছড়ায় না। খোঁচা খোঁচা দাড়ির মধ্যেও মসৃণতা রয়েছে, যা সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে।

৩. অগোছালো ভ্রূ : চোখের ওপরের বেমানান ভ্রূ জোড়া জ্বলজ্বলে চোখ জোড়াকেও মলিন করে দিতে পারে। পুরুষরা সাধারণত মেয়েদের মতো ভ্রূ প্ল্যাক করে না বা এদের খুব বেশি যত্ন নেয় না। তাই ভ্রূ জোড়া অন্তত গোছালো রাখা উচিত। নানা ধরনের অর্থপূর্ণ আবেগের লেনদেনে ভ্রূ জোড়া ব্যবহার করে মানুষ। তাই একে পরিপূর্ণ সৌন্দর্য প্রদান করা উচিত। সম্পূর্ণ পৃথক এবং পরিপাটি ভ্রূ দুটো ব্যবহার করে অন্যের সঙ্গে দারুণ যোগাযোগ স্থাপন করা যায়।

৪. নাকের চুল : এটি পরিমাণে খুবই কম, তাই এড়িয়ে যাওয়া খুব সহজ। কিন্তু সীমানা পেরিয়ে নাকের চুল সামান্য উঁকিঝুঁকি মারলেই আপনার ব্যক্তিত্ব ধুলায় লুটোপুটি খাবে। তাই এর কথা ভুল গেলে চলবে না। ট্রিমার দিয়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ড ব্যয় করে নাকের চুল পরিষ্কার করে ফেলা যায়। লম্বা মানুষের জন্য এর প্রয়োজন বেশি। আপনি যত লম্বা হবেন, আপনার নাকের দিকে তত বেশি চোখ পড়বে সবার। তাই প্রত্যেক লম্বা মানুষের নাকের চুলের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৫. কানের চুল : নাকের চুলের তত্ত্ব কানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বেশির ভাগ মানুষের কানে তেমন চুল না থাকলেও যাদের রয়েছে তাদের বাড়তি খেয়াল দিতে হবে। ট্রিমার ব্যবহার করে এদের নিয়ন্ত্রণ করলে আপনার অবয়বে অরুচিকর কিছু খুঁজে পাবে না লোকে। কানের বাইরের দিকের এবং সহজে দেখা যায় এমন অংশের চুল পরিষ্কার করুন। এর বেশি গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

৬. ঘাড়ের লোম : অনেকের ঘাড়ে বেশ লোম গজায় যা দৃষ্টিকটু। এগুলো চুল কাটার সময় এমনিতেই পরিষ্কার করে ফেলা যায়। এ ছাড়া কিছু সময় নিজেকেই হাল ধরতে হয়। ইলেকট্রিক রেজার বা ট্রিমার ব্যবহার করুন। ঘাড় পরিষ্কর না থাকলে দেখতে বিদঘুটে লাগে। ঘাড়ে বড় লোম মোটেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতীক নয়। শার্ট বা কোটের কলার ছাপিয়ে যখন লোম উঁকি দেবে, তখন যে স্টাইলই বেছে নেন তা মাটি হয়ে যাবে।

৭. কানের ওপর চলে আসা চুল : অনেকের কোঁকড়া চুল বা জুলফি কানের ওপর চলে আসে। এটা শুধু অসুবিধাজনকই নয়, দেখতেও সব সময় ভালো লাগে না। তাই কানের অংশটুকুতে একটু বাঁকা করে কাটতে হয়। এ কাজ এমনিতেই সেলুনে করে দেবে এক্সপার্ট নরসুন্দররা। কানের ওপর চলে আসা চুলগুলো ছেঁটে নিন। দেখতে ভালো লাগবে।

সর্বোচ্চ পঠিত

Quis autem vel eum iure reprehenderit qui in ea voluptate velit esse quam nihil molestiae consequatur, vel illum qui dolorem?

Temporibus autem quibusdam et aut officiis debitis aut rerum necessitatibus saepe eveniet.

কপিরাইট © ২০১৫ ভোরের পাখি - কে.কে.এন মিডিয়া এর একটি প্রচেষ্টা

To Top